মাইক্রোসফট ও উবারের পর এবার ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাও এআই খাতের ক্রমবর্ধমান খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় খুঁজছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দি ইনফরমেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মীদের এআই টুল ব্যবহারের ওপর নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মেটা।
বিগত কয়েক মাস কর্মীদের কোডিং, গবেষণা ও দৈনন্দিন কাজে যতটা সম্ভব বেশি এআই ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করে আসছিল মেটা। প্রযুক্তি বিষয়টি ‘টোকেনম্যাক্সিং’ নামে পরিচিত। তবে অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে কৌশলটি এখন কোম্পানির জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
মেটার নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, কেবল কর্মীদের এআই ব্যবহারের পেছনেই ২০২৬ সালে কোম্পানির শত কোটি ডলার খরচ হয়ে যেতে পারে। ফলে খরচ যেন আরো বেড়ে না যায়, সেজন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের প্যারেন্ট কোম্পানিটি এখন নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।
মেটার প্রায় ছয় হাজার কর্মীর কাছে পাঠানো সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় বলা হয়, কোম্পানি এখন থেকে এআই ব্যবহারের ওপর আরো কড়া নজরদারি চালাবে। একই সঙ্গে কোন টিম কতটুকু এআই ব্যবহার করছে, তাও স্পষ্ট করা হবে।
খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ‘এআই গেটওয়ে’ নামের একটি নতুন অভ্যন্তরীণ প্লাটফর্ম তৈরি করছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি। এ সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন টিমের এআই ব্যবহার ও এর পেছনে হওয়া খরচ রিয়াল টাইমে বা তাৎক্ষণিকভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। এ প্লাটফর্মে একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ড থাকবে। সেখানে এআই-সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ড ও খরচ এক জায়গায় দেখা যাবে।
এছাড়া এআই ব্যবহারে হঠাৎ বড় কোনো খরচ দেখা দিলে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা আছে। বর্তমানে কর্মীরা ঠিক কত অর্থে এআই ব্যবহার করছেন, তা নিজেরা পরিষ্কার দেখতে পান না। ফলে অতিরিক্ত ব্যবহারের আর্থিক প্রভাব বোঝা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।
মেটা আশা করছে, ২০২৭ সালের মধ্যে কোম্পানিটি একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে টোকেন বাজেট ও বরাদ্দ নির্ধারণ করে এআই খাতের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করতে পারবে।
খরচ কমাতে মেটা কর্মীদের বাইরের এআই টুলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ টুল ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মেটার নিজস্ব কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট বা সহায়ক সফটওয়্যার ‘মেটাকোড’, যা আগে ‘ডেভমেট’ নামে পরিচিত ছিল। কর্মীদের নিজস্ব সিস্টেমের দিকে ধাবিত করতে পারলে মেটা খরচ ও ব্যবহারের ধরন দুটোর ওপরই বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অনেক কোম্পানিই এআই ব্যবহারের লুকিয়ে থাকা খরচ টের পেতে শুরু করেছে। মেটার এ পদক্ষেপ তারই অংশ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একক কোনো এআই প্রশ্নের উত্তর তৈরির খরচ কমলেও সামগ্রিক ব্যবহারের হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় মোট খরচ বেড়েই চলেছে।
সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় জটিল কোডিং বা এআই এজেন্টের কাজগুলো অনেক বেশি কম্পিউটিং শক্তি খরচ হয়। এ সমস্যা শুধু মেটার একার নয়। জানা গেছে, রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবার ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত পুরো এআই কোডিং বাজেট বছরের প্রথম চার মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফটও কর্মীদের মধ্যে এআই ব্যবহার বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ ব্যয় সাশ্রয় করার উপায় খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু কার্যকারিতা নয়, খরচের দিকটিও বড় বড় কোম্পানির জন্য এখন অন্যতম প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।